গঙ্গার ডাকে” একজন ক্লান্ত পথিক, যে নিজেকে খুঁজতে বেরিয়েছিল
“গঙ্গার ডাকে” একজন ক্লান্ত পথিক, যে নিজেকে খুঁজতে বেরিয়েছিল
এক অস্থির রাত। বাড়ি ঘরের চারপাশে সব কিছু ঠিকঠাক, কিন্তু ভিতরে একটা অজানা শূন্যতা।
চোখ বন্ধ করতেই যেন মনে হলো কোথা থেকে ভেসে এলো এক নরম ডাক—
"এসো… বারাণসী এসো…"
সে রাতেই সিদ্ধান্ত নিই। আর না! এবার একটু ভেতরের দিকে হাঁটা দরকার।
এই শহর নয়, দরকার এমন এক স্থান, যেখানে আত্মা একটু নিঃশ্বাস নিতে পারে।
যেখানে গঙ্গার ঢেউ শুধু পানি নয়, একেকটা তরঙ্গ যেন ঈশ্বরের ছোঁয়া।
যাত্রা শুরু – কলকাতা থেকে বারাণসী
ভোর বেলায় হাওড়া স্টেশন।
পূর্বা এক্সপ্রেসে উঠে বসলাম – একটা স্লিপার টিকিট, দাম মাত্র ₹400।
গন্তব্য: বারাণসী।
আসলে মন যাচ্ছিল বারাণসীর দিকে, ট্রেন তো শুধু বাহন।ট্রেন জানালার পাশে বসে দেখছিলাম গ্রামের রাস্তা, ধানক্ষেত, শূন্য আকাশ…
ভেতরের অস্থিরতাও যেন একটু একটু করে শান্ত হচ্ছিল।
প্রথম প্রহরে বারাণসী
ট্রেন থামলো সকাল ৮টা নাগাদ। বারাণসী স্টেশনে পা রেখেই বুঝলাম –
এ শহর যেন সময়ের বাইরে।
একটা টোটোতে উঠলাম, ₹40 দিয়ে গেলাম দাশাশ্বমেধ ঘাটের দিকে।
ঘাটের ধারে বসেই সূর্যোদয় দেখলাম।
গঙ্গার ওপর সূর্যের প্রথম আলো পড়তেই মনে হলো—
আমার জীবনের সমস্ত অন্ধকার যেন ধুয়ে যাচ্ছে।
ছায়া খুঁজে পাওয়া
রাত্রি যাপনের জন্য বেছে নিলাম একটা সাশ্রয়ী হোটেল: Hotel Alka।
ঘাটের একদম কাছে, পরিষ্কার, শান্ত।
₹1000 টাকায় একটা AC রুম।
খুব বেশি কিছু না, কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিছু দেয় এ শহর।চা খেতে খেতে জানালা দিয়ে গঙ্গা দেখা—
এই তো শান্তি।
99travelingdays
মন্দির, আরতি ও আত্মার কথা
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে গিয়েছিলাম দুপুরে।
অনেক ভিড়, অনেক প্রার্থনা, অনেক চোখের জল।
মনে হচ্ছিল, ঈশ্বর এই মন্দিরে শুধু শিব নন,
তিনি প্রত্যেক ক্লান্ত প্রাণের একটুকরো আশ্রয়।
সন্ধ্যায় দাশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গা আরতি।
সেই দৃশ্য—আগুনের আলো, ঘণ্টার শব্দ, মন্ত্র—
মনে হলো, আমি আর আমি নেই।
আমি এখন শুধু এক স্রোত, এক গঙ্গা, এক নিঃশ্বাস।
জীবন ছুঁয়ে যাওয়া আসসিঘাট
পরদিন ভোরে গেলাম আসসিঘাট।
“সুবহ-এ-বারাণসী” নামে একটা আয়োজন হয় এখানে।
যোগব্যায়াম, ধ্যান, গান, মন্ত্র…
মনে হচ্ছিল যেন আত্মার সঙ্গে ঈশ্বরের আলতো স্পর্শ।
ফেরার আগে কিছু রেখে যাওয়া
ফেরার দিন।
সারনাথ দেখে এলাম—যেখানে গৌতম বুদ্ধ প্রথম উপদেশ দেন।
তারপর হালকা খাওয়া:
কাশী চাট ভাণ্ডার থেকে টিকি
ব্লু লস্যি শপের স্ট্রবেরি লস্যি
সবকিছুতেই এক সরলতা, যা বড় শহরে হারিয়ে যায়।ফেরার পথে মনে হচ্ছিল—
আমি কিছু রেখে যাচ্ছি বারাণসীতে। হয়ত একটা পুরনো আমি।
আর ফিরছি নতুন হয়ে, একটু শান্ত হয়ে।
ভ্রমণ ব্যয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য
খরচ পরিমাণ
ট্রেন ভাড়া (দু’দিক) ₹800
হোটেল (2 রাত) ₹1800
খাবার ₹800
স্থানীয় যাতায়াত ₹500
অন্যান্য ₹500
মোট খরচ ₹4400 – ₹5000
বারাণসী শুধুই একটা শহর নয়।
এটা একটা অনুভব, একটা আত্মার গান।
যারা ভেতরের দিকে হাঁটতে চায়, বারাণসী তাঁদের ডাকে।
শুধু কানে শুনতে হয় না,
মনে শুনলেই চলে।

Comments
Post a Comment