মায়াময় উত্তরাখণ্ড
একটি ছোট ভ্রমণ কাহিনি: মায়াময় উত্তরাখণ্ড
গত গ্রীষ্মে আমি এক আত্মিক প্রশান্তির খোঁজে রওনা দিয়েছিলাম উত্তরাখণ্ডের পথে — দেবভূমি, যেখানে পাহাড় কুয়াশায় ঢাকা আর প্রকৃতি যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদে পূর্ণ। আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ঋষিকেশ থেকে, যেখানে গঙ্গা নদী গর্জনে প্রবাহিত হয় এবং সন্ধ্যার গঙ্গা আরতির ধ্বনি বাতাসে মিশে যায় এক অলৌকিক সুরের মতো। জীবনে প্রথমবারের মতো রিভার র্যাফটিং করলাম — ঠান্ডা জলের ছিটে যেন চেতনা জাগিয়ে দিল।
এরপর আমি গিয়েছিলাম ঔলি — গঢ়ওয়াল হিমালয়ের কোলে এক শান্ত হিল স্টেশন। রোপওয়ে থেকে দৃশ্যটা ছিল স্বপ্নের মতো: বরফে মোড়া শৃঙ্গ, অনন্ত দেবদারু বন আর পেছনে ডুবে যাওয়া সোনালি সূর্য। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ের ঢালে বসে, এক কাপ চায়ে চুমুক দিয়ে, নিরবতা উপভোগ করছিলাম।

মায়াময় উত্তরাখণ্ড
আমার শেষ গন্তব্য ছিল কেদারনাথ। সেই ট্রেক ছিল কষ্টসাধ্য, কিন্তু প্রতিটি পা যেন কোনো গভীর অর্থ বহন করছিল। যখন অবশেষে আমি প্রাচীন মন্দিরের সামনে দাঁড়ালাম, চারপাশে আকাশ ছোঁয়া শৃঙ্গ আর ঘূর্ণায়মান মেঘ — তখন এক অপার শান্তিতে মন ভরে উঠল। এটা শুধু একটা ভ্রমণ ছিল না, ছিল এক আত্ম-অনুসন্ধান।
উত্তরাখণ্ড শুধু তার সৌন্দর্যই দেখায়নি, বরং আমায় নিজের হারিয়ে যাওয়া একটা অংশ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে।
Comments
Post a Comment