আনন্দ নগরী থেকে ঈশ্বরের দ্বারে – এক স্মরণীয় হরিদ্বার ভ্রমণ
আনন্দ নগরী থেকে ঈশ্বরের দ্বারে – এক স্মরণীয় হরিদ্বার ভ্রমণ
দিন ১: যাত্রার সূচনা (কলকাতা থেকে হরিদ্বার)
শীতের এক হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আমরা ছয়জন বন্ধু মিলে হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া-দেহরাদুন আপ উপাসনা এক্সপ্রেস (Train No. 12359) তে উঠলাম। বেলা 1.00 PM -এ ট্রেন ছাড়ে। আমরা আগেভাগেই স্লিপার ক্লাসে টিকিট কেটে নিয়েছিলাম – প্রতি টিকিট প্রায় ₹450। যারা একটু আরামে যেতে চান, তাদের জন্য 3AC – প্রায় ₹1,200-1,500 হতে পারে।
দিন ২: হরিদ্বারে আগমন ও হোটেল চেক-ইন
পরদিন বিকেল ৪টার দিকে আমরা হরিদ্বার স্টেশনে পৌঁছালাম। স্টেশন থেকে অটো/টোটোতে করে হর কি পৌরি (Har Ki Pauri)-এর কাছাকাছি পৌঁছলাম (ভাড়া – ₹30-₹40)।
আমরা বুক করেছিলাম একটি বাজেট হোটেল –
হোটেল গঙ্গা দর্শন
- অবস্থান: হর কি পৌরি থেকে ৫ মিনিট হাঁটা
- রুম ভাড়া: ₹800-₹1000 (ডাবল বেড রুম, গরম জলের ব্যবস্থা সহ)
- সুবিধা: ফ্রি Wi-Fi, টিভি, ঠান্ডা-গরম জল, বালকনি থেকে গঙ্গার দৃশ্য
দিন ৩: হরিদ্বার দর্শন
সকালে উঠে হর কি পৌরি-তে গঙ্গা স্নান করে এলাম। শীতল গঙ্গাজলে ডুব দিয়ে মনে হল যেন সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল।
এরপর আমরা গেলাম:
- মনসা দেবী মন্দির (রোপওয়ে – ₹100 রিটার্ন)
- চণ্ডী দেবী মন্দির (রোপওয়ে – ₹100 রিটার্ন)
- ভারত মাতা মন্দির (অটো ভাড়া – ₹50-₹80)
বিকেলে আবার হর কি পৌরি-তে গঙ্গা আরতিতে অংশগ্রহণ করলাম – অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। প্রদীপ, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তদের সুরে হৃদয় ভরে উঠল।
দিন ৪: ঋষিকেশ ছোট্ট সফর
পরদিন সকালে হরিদ্বার থেকে ঋষিকেশ গিয়েছিলাম (বাস/শেয়ার অটো – ₹50-₹70)।
- লক্ষ্মণ ঝুলা, রাম ঝুলা, বিটল্স আশ্রম ঘুরে দেখলাম।
- দুপুরে ছোট্ট রাস্তার ধারে “চোটি ওয়ালা” ধাবায় খাওয়া – বিশুদ্ধ নিরামিষ খাবার, থালি ₹120।
দিন ৫: ফেরার পালা
সন্ধ্যায় হরিদ্বার ফিরে এসে হোটেল থেকে চেক আউট করলাম। উপাসনা এক্সপ্রেসে রওনা দিলাম ফের কলকাতার
মোট আনুমানিক খরচ (প্রতি ব্যক্তি):
| খরচের ধরন | পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| ট্রেন টিকিট (SL) | ₹900 (দুই পথ) |
| হোটেল (২ রাত) | ₹1000 |
| খাবার | ₹700 |
| স্থানীয় ভাড়া | ₹400 |
| অন্যান্য | ₹200 |
| মোট | প্রায় ₹3,200 |
যদি 3AC বেছে নেওয়া হয়, তাহলে মোট খরচ হতে পারে ₹4,500-এর আশেপাশে।
এই যাত্রায় আমরা শুধু ভ্রমণ করিনি, হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি হরিদ্বারের আধ্যাত্মিকতা ও গঙ্গার পবিত্রতা। এমন ভ্রমণ বারবার না হলেও, অন্তত একবার জীবনে অবশ্যই করা উচিত।
আর কিছু তথ্য বা পরিকল্পনার দরকার হলে জানাবেন!

Comments
Post a Comment